মানবকল্যাণ, বিশুদ্ধ শিক্ষা ও সুন্নাহর ভিত্তিতে একটি আদর্শ সামাজিক রূপান্তর
WOTM-এর পথচলার সূচনা হয় ২০১৮ সালের প্রারম্ভে একদল দূরদর্শী ইসলামী চিন্তাবিদ, পেশাজীবী ও সমাজসেবকদের হাত ধরে। বাংলাদেশের প্রান্তিক জনপদে তীব্র শীতের প্রকোপ, আকস্মিক বন্যা এবং বিশুদ্ধ দ্বীনি ও কর্মমুখী শিক্ষার অভাব দেখে প্রতিষ্ঠাতাগণ এমন একটি সুসংগঠিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুধাবন করেন, যা কেবল তাৎক্ষণিক ত্রাণ নয়, বরং মানুষের সার্বিক জীবনমান পরিবর্তনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
কার্যক্রমের স্থায়িত্ব এবং দাতাদের আমানতের পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের আরজেএসসি থেকে সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের আওতায় আনুষ্ঠানিক আইনি নিবন্ধন লাভ করে (নিবন্ধন নং: )। এর মাধ্যমে একটি দক্ষ ট্রাস্টি বোর্ড ও সম্মানিত শরীয়াহ উপদেষ্টা পরিষদের সমন্বয়ে আধুনিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হয়।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে WOTM ধাপে ধাপে তার সেবাকে ৩টি মৌলিক স্তম্ভে সম্প্রসারিত করেছে: প্রথমত, বিশুদ্ধ কুরআন শিক্ষা ও আধুনিক সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে মাদরাসা ও এতিমখানা পরিচালনা; দ্বিতীয়ত, স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্পের আওতায় রিকশা-ভ্যান, সেলাই মেশিন, ছাগল-গরু ও গভীর নলকূপ স্থাপন করে পরিবারগুলোকে স্থায়ীভাবে স্বনির্ভর করা; এবং তৃতীয়ত, সমাজের সর্বস্তরে সহীহ সুন্নাহর দাওয়াহ ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়া।
বর্তমানে WOTM বাংলাদেশের সকল ৬৪টি জেলায় সক্রিয় সমন্বয়ক ও নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে ১০ লক্ষাধিক মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) কর্তৃক ধারা ৪৪(২)(খ) অনুযায়ী শতভাগ কর রেয়াত মর্যাদা এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ফার্ম দ্বারা নিয়মিত অডিট রিপোর্টের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ধর্মীয় ইখলাসের পাশাপাশি সর্বোচ্চ কর্পোরেট সুশাসন নিশ্চিত করেছে।